শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভালোবাসা, বিরহ, হারানোর বেদনা আর জীবনের নানা বাস্তব অভিজ্ঞতাকে শব্দের মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করে চলেছেন তরুণ কবি ও সাংবাদিক মোঃ খাইরুল ইসলাম। ‘বিরহ কবি’ নামে পরিচিত এই তরুণের সাহিত্যজীবনের শুরু হয়েছে ব্যক্তিগত অনুভূতি ও ভালোবাসার গল্প থেকে। বর্তমানে কবিতার পাশাপাশি সাংবাদিকতাতেও নিজের অবস্থান তৈরি করতে কাজ করছেন তিনি।
মোঃ খাইরুল ইসলাম ২০০২ সালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ৭ নম্বর ঢালজোড়া ইউনিয়নের বাসুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা রমজান আলী এবং মা শাহানাজ বেগম। শৈশবের একটি উল্লেখযোগ্য সময় তিনি মামাবাড়িতে কাটিয়েছেন। পরে ২০১৪ সালের শুরুর দিকে নিজ বাড়িতে ফিরে বাবা-মা ও ছোট বোনের সঙ্গে পারিবারিক জীবনে নতুনভাবে পথচলা শুরু করেন।
গ্রামীণ পরিবেশ, মানুষের জীবনযাপন এবং পারিবারিক নানা অভিজ্ঞতা ছোটবেলা থেকেই তাঁর চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলে। জীবনের বিভিন্ন উত্থান-পতন তাঁকে ধীরে ধীরে সংবেদনশীল করে তোলে। মানুষের সুখ-দুঃখ ও মনের অনুভূতি উপলব্ধি করার মধ্য দিয়ে তাঁর মধ্যে লেখালেখির আগ্রহ তৈরি হয়।
২০২০ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে নানা বাস্তবতার কারণে পড়াশোনায় বিরতি এলেও ২০২৬ সালে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। তাঁর মতে, জীবনে কোনো পর্যায়ে থেমে গেলেও স্বপ্ন থেমে থাকতে হয় না; ইচ্ছা ও চেষ্টা থাকলে নতুন করে পথচলা সম্ভব।
ভালোবাসার গল্প থেকেই কবিতার শুরু
মোঃ খাইরুল ইসলামের কবিতার জগতে প্রবেশের পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের গল্প। প্রিয় মানুষকে হারানোর পর একাকিত্ব, অপেক্ষা ও অপূর্ণতার অনুভূতি তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই অনুভূতিগুলোই একসময় কবিতার ভাষা পেতে শুরু করে।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি তিনি নতুন করে কবিতা লেখা শুরু করেন। তাঁর প্রথম কবিতার নাম ‘বিয়ের শাড়ি’। প্রিয় মানুষকে বিয়ের শাড়িতে দেখার অপূর্ণ স্বপ্ন ও বিচ্ছেদের বেদনা থেকেই কবিতাটির জন্ম বলে জানান তিনি।
এরপর তাঁর লেখায় ভালোবাসা, বিরহ, বিচ্ছেদ, অভিমান, অপেক্ষা ও জীবনের বাস্তবতার নানা দিক উঠে আসতে থাকে। ধীরে ধীরে ‘বিরহ কবি মোঃ খাইরুল ইসলাম’ নামেই পরিচিতি পেতে শুরু করেন তিনি।
পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে কবিতা
কবিতা লেখার পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচর্চা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও। ২০২৬ সালের ১ মে তাঁর লেখা কবিতা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তা, দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ এবং জাতীয় দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন।
পত্রিকার পাতায় নিজের লেখা প্রকাশিত হওয়াকে কবিজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি। এ অভিজ্ঞতা তাঁকে ভবিষ্যতে আরও বেশি সাহিত্যচর্চায় উৎসাহিত করেছে।
কবিতার পাশাপাশি সাংবাদিকতা
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন মোঃ খাইরুল ইসলাম। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মানুষের কথা, সমাজের বাস্তবতা ও বিভিন্ন ঘটনার তথ্য মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দৈনিক প্রতিচ্ছবি-এর গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে ‘শ্রেষ্ঠ সংবাদদাতা’ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ উপলক্ষে তিনি শ্রেষ্ঠ সংবাদদাতা সম্মাননা, সার্টিফিকেট, প্রত্যয়নপত্র ও টি-শার্ট পেয়েছেন।
জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত হওয়ার স্বপ্ন
কবিতা ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন রয়েছে মোঃ খাইরুল ইসলামের। ভবিষ্যতে নিজেকে জাতীয় পর্যায়ের একজন কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। একই সঙ্গে মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্যদেরও মানবসেবায় উৎসাহিত করার প্রত্যয় রয়েছে তাঁর।
তিনি বিশ্বাস করেন, একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হতে পারে অন্য মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাই সাহিত্য ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজের মানুষের জন্য ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
শৈশবের স্মৃতি, পারিবারিক জীবন, শিক্ষাজীবনের ওঠানামা, ভালোবাসার মানুষকে হারানোর বেদনা, কবিতার জগতে প্রবেশ এবং সাংবাদিকতায় নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা—সবকিছু মিলিয়ে মোঃ খাইরুল ইসলামের জীবন এখনো এগিয়ে চলা এক গল্প।
তাঁর প্রত্যাশা, একদিন তাঁর কবিতা মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে। জীবনের সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, কষ্ট, অপেক্ষা ও বাস্তবতার সঙ্গে পাঠক তাঁর কবিতায় নিজের অনুভূতির মিল খুঁজে পাবেন।
বিরহ কবি মোঃ খাইরুল ইসলাম—কবি, লেখক ও সাংবাদিক হিসেবে নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে চান।
«“জীবনের না-বলা কথাগুলোই একদিন কবিতার ভাষা হয়ে ফিরে আসে।”»